সর্বশেষ খবর

আল্লামা ফারুকী হত্যাকাণ্ডের বিচার : প্রয়োজন সরকারের আন্তরিকতা

                                                    —এম সাইফুল ইসলাম নেজামী—-

মানবতার ধর্ম ইসলাম, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানে বিশ্বাসী ইসলামের সফল গবেষক ও আলোচক ছিলেন হাইকোর্ট মসজিদের খতিব শহীদ আল্লামা ফারুকী। তিনি মিডিয়া ও মঞ্চ প্রোগ্রামে সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক বক্তব্য তো দিতেনই না বরং মদিনার সনদের ভিত্তিতে সংখ্যালঘুদের অধিকার বর্ণনা ছিল তার আলোচনার অন্যতম বিষয়বস্তু। তাঁর বক্তব্য ও লিখুনিতে সমাজে বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য, হানাহানি সৃষ্টিকর কোন বার্তা পাওয়া যায়না। তিনি দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে প্রাণের ভয় না করে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে রাজস্বাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর গবেষনালব্ধ কর্মকাণ্ড তাঁকে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে পৌঁছে দিয়েছে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে। জেদ্দা বিমানবন্দর মসজিদের ইমামতিসহ বিশ্বের প্রায় মুসলিম দেশে সফর করে তিনি শুধু মাজহাব মিল্লাত প্রচার করেননি, বিশ্ব মাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল করেছেন। তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্ম বিশ্লেষণ করলে তাঁকে একজন অকৃত্রিম দেশপ্রেমিক হিসেবে পাওয়া যাবে। ফারুকী এক‌টি প্রতিষ্ঠানের নাম। তাঁর সম্পূর্ণ জীবন ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের পক্ষে। যারা দেশ জাতি ও মানবতার শত্রু, আল্লামা নুরুল ইসলাম ফারুকী ছিলেন তাদের জন্য শানিত তলোয়ার। তাহলে এ কথা দিনের আলোর মত স্পষ্ট যে আল্লামা ফারুকীর হত্যাকারীরা শুধু ফারুকীর শত্রু নয়, তারা দেশ, জাতি ও মানবতার চরম শত্রু। তা সত্ত্বেও কোন অজ্ঞাত কারণে দেশের এ সূর্য সন্তানের হত্যাকারীরা হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছর পরেও অধরাই? ১৪ সালের ২৭ আগস্টের বেদনাবিধুর সেই রাতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ২৪ ঘন্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলেও পাঁচবছরেও ফারুকী হত্যা মামলার কার্যত কোন অগ্রগতি হয়নি। ছাত্রসেনার কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ছাত্রনেতা ইমরান হুসাইন তুষার বাদী হয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন কয়েকজন মিডিয়া উপস্থাপকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন কিন্তু প্রশাসন একজনকেও গ্রেপ্তার তো করেইনি কাউকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যও ডেকেও পাঠাননি। পক্ষান্তরে আল্লামা ফারুকী হত্যাকাণ্ডের পর সরকারের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিচক্ষণতায় দেশে বড় বড় অপারেশনে সফল হয়েছে প্রশাসন। যা ইতিপূর্বে আলোচনা করেছি। দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যদি জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনের মত কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারে। দেশের সাবেক ক্ষমতাধর প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করতে পারে, প্রধানমন্ত্রীর কটুক্তিকারীকে মুহূর্তের মধ্যে ধরতে সক্ষম হয়, তাহলে আল্লামা ফারুকী হত্যাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে কেন? ফারুকী হত্যাকারীরা কী সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে ক্ষমতাধর, নাকি হত্যাকারীদের ধরতে প্রশাসনের আন্তরিকতার অভাব, নাকি মুখে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বলে গোপনে জঙ্গিদের সাথে প্রশাসনের আতাত রয়েছে? তা স্পষ্ট করা সময়ের দাবি। শিশু রাজন হত্যার বিচার যদি বছরান্তে তার পরিবার পেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী পুত্রের দাবি অনুযায়ী ব্লগারদের হত্যাকারী, বিদেশীদের হত্যাকারী, শিশু হত্যাকারীদের প্রশাসন গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলে। যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী, দেশের সম্পদ আল্লামা ফারুকীর হত্যাকারীদের ধরতে অক্ষমতা কোথায়? প্রশ্ন প্রশাসনের কাছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি জানেন স্বজন হারানোর ব্যাথা কত তীব্র। আপনি দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এ যন্ত্রণা বুকে নিয়ে বেড়াচ্ছেন। আপনার পিতা হত্যার বিচার করে আপনি যোগ্য সন্তানের দৃষ্টান্ত রেখেছেন। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের আলোচনায় আপনার কান্না আমাদের নতুন করে আশা জাগাচ্ছে। আপনার যেমন বঙ্গবন্ধুর কথা মুখে অনতেই চোখ ভিজে যায়। শহীদে মিল্লাতকে নিয়ে এ প্রবন্ধ যখন লিখছি আমারও তেমন অশ্রুধারা বইছে। না শুধু আমার নয়, সুফিবাদে বিশ্বাসী মানবতাবাদী কোটি ফারুকী প্রেমিকের আর্তনাদ। শুধু একটিই শ্লোগান বুকে মুখে, আল্লামা ফারুকী শহীদ কেন, প্রশাসনের জবাব চাই, আমার ভাই মরল কেন প্রশাসনের জবাব চাই, ফারুকী হত্যার বিচার চাই, বিচাই চাই, বিচার চাই! সরকার আন্তরিক হয়ে অসাধ্য সাধন করছে। ফারুকী হত্যার বিচারেও আন্তরিকতা চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কোটি ফারুকী ভক্তের স্বজনহারা আহাজারি আপনি একটু মমতার কানে শুনবেন কী? আপনি একজন মজলুম, শত নির্যাতনের শিকারে জর্জরিত। আল্লামা ফারুকীও মজলুম। আমরা জানি, আপনি মানবতার ধর্ম ইসলামের অনুসারী, সুফিবাদে বিশ্বাসী। আপনি আল্লামা ফারুকী হত্যার বিচারে আন্তরিক হলে কোন অপশক্তি তা ব্যাহত করতে পারবে না। বরাবরের মতো আবার আপনার প্রতি শোকাহত হৃদয়ের বিনীত অনুরোধ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি জঙ্গি ও সন্ত্রাসমুক্ত দেশ গড়তে চাইলে আল্লামা ফারুকী হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারপূর্বক বিচারের আওতায় আনুন। তাতেই বেরিয়ে আসবে কারা জঙ্গিবাদের মূল হোতা। মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী, আপনি আন্তরিক হলে কোটি হৃদয়ের কান্না থামবে। ফারুকী হত্যার বিচার হলে দেশ চিনবে দেশদ্রোহী, শান্ত হবে কোটি সুন্নি।
লেখক: প্রাবন্ধিক ও সমাজকর্মী সুপার- কাজীপাড়া সুন্নিয়া মাদরাসা
msinejam@gmail.com 01626364062

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

শুভম্ মিউজিক্যাল গ্রুপের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

নুর মোহাম্মদ : বিশ্ববরেণ্য কালজয়ী মণীষা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্ম অনুভবে”জগতের আনন্দ ...