সর্বশেষ খবর

বিশ্বের বিস্ময় শেখ হাসিনা

মহিউদ্দিন ইমন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্যকন্যা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চতুর্থ বারের মতো সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। একই সাথে চতুর্থ বারের মতো তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। একাদশ জাতীয় সংসদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে মুজিবকন্যা, মানবতার জননী শেখ হাসিনাকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়। একই সাথে তিনি চতুর্থ বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বে নিজেকে একজন সৎ, যোগ্য, দক্ষ, অভিজ্ঞ, মানবিক এবং লৌহমানবী হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। একই সাথে তিনি বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। আপন মহিমায় সমুজ্জ্বল আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি বিশ্বে কোনো নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চতুর্থ বারের মতো ক্ষমতাসীন হওয়ার অনন্য নজির ও গৌরবের মুকুটের অধিকারিও হলেন তিনি। এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী চার চার বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শেখ হাসিনাকে ইতোমধ্যে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ‘শেখ হাসিনা ইজ দ্য গ্রেট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মিয়ারমারের সামরিক জান্তা কর্তৃক নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মাদার অব হিউমিনিটি তথা মানবতার মাতা খেতাবে ভূষিত করা হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর এসব অর্জনে জাতি হিসেবে আমরা বিশ্বে সম্মানের এবং মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিলো বাঙালি জাতিকে বিশ্বের দরবারে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছ থেকে শপথ গ্রহণ করেন। শপথের পর সংসদ ভবনের নবম তলায় সরকারি দলের সভাকক্ষে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সদস্যদের বৈঠক হয়। বৈঠকে সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নাম সংসদীয় নেতা হিসেবে প্রস্তাব করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি। এতে সমর্থন জানান দলের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু এমপি। এরপর সভায় উপস্থিত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে শেখ হাসিনাকে সংসদ নেতা ও আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভানেত্রী হিসেবে নির্বাচন করেন। এর মাধ্যমে শেখ হাসিনা টানা তৃতীয়বারের মতো সংসদ নেতা নির্বাচিত হলেন। ফলে শেখ হাসিনাই চতুর্থ বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হলেন। এর মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে পরপর তিনবার এবং এই পর্যন্ত চারবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। নির্বাচনের মাধ্যমে পরপর তিনবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার রেকর্ডও গণতান্ত্রিক বিশ্বে খুব বেশি নেই। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮ আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৫৭টি আসনে এককভাবে জয়লাভ করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এমনকি মহাজোটের শরিকদের জয়লাভ করা আসনসহ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জিতে আসা মোট আসন সংখ্যা ২৮৮টি। ১৯৯৬ সালে সপ্তম সংসদে শেখ হাসিনা প্রথম সংসদ নেতা নির্বাচিত হন। পরে ২০০৯ সালে নবম সংসদ এবং ২০১৪ সালে দশম সংসদের পর এবার ২০১৮ সালে টানা তৃতীয় বারের মতো সংসদ নেতা নির্বাচিত হলে বাঙালির প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে গত ৭ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের স্ত্রী রাশিদা খানম নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বঙ্গভবনে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা শেখ রেহানা তাঁর সঙ্গে ছিলেন। টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে আরও একটি রেকর্ড গড়লেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। ইতোমধ্যে সবচেয়ে বেশি সময়- তথা তিন বারের জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতার পদও অলংকৃত করেছিলেন তিনি। তাও বাংলাদেশের জন্য নয়, উপমহাদেরও জন্য রেকর্ড। আন্তর্জাতিক পরিম-লে তাঁকে, শেখ হাসিনা ইজ দ্যা গ্রেট’ হিসেবে ভূষিত করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে। এটি বাংলাদেশের জন্য, একই সাথে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার জন্য বড় অর্জন বলেও আখ্যায়িত করছেন অনেকে। গত ৭ জানুয়ারি টানা তৃতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রীকে শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এই শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে সর্বশেষ রেকর্ডটি গড়েন তিনি। তা ছাড়া টানা প্রায় ৩৮ বছর ধরে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। চার চারবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার এমন দৃষ্টান্ত বাংলাদেশে আর নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা:- ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন প্রথম বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে ৫ বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর ২০০৮ থেকে ২০১৪, ২০১৪ থেকে ২০১৯ মেয়াদে দুই বারে ১০ বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। আর গত ৭ জানুয়ারি ২০১৯ সালে চতুর্থ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন। বাংলাদেশে পরপর তিন বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার এবং ৪ বার প্রধানমন্ত্রী থাকার নজির বিশ্বে দ্বিতীয়। এর আগে একমাত্র ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী চার চারবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন। অবশ্য শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনে নানান চড়াই উৎরাই অতিক্রম করে আজকের অবস্থানে আসতে হয়েছে। এর মধ্যে তিনি জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পলন করেছেন তিন তিন বার। জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রথম বার সংসদে ১৯৮৬ সালে বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত হন। এর ১৯৯১ সালে দ্বিতীয় বার এবং ২০০১ সালে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় মেয়ে শেখ হাসিনা। তাঁর জন্ম ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হন।

সূত্রঃ বঙ্গবন্ধু অনলাইন অাআর্কাইভ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আনন্দন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান “বৃদ্ধাশ্রম”

যীশু সেন : বৃদ্ধাশ্রম নয়, পরিবার ও সন্তানই হোক বাবা মায়ের শেষ ...